ব্যবসায় সাফল্য লাভের অনেক উপায় আছে। কিন্তু, অনেকেই আছেন যারা জানেন না, সেই অনেক উপায়ের একটি হচ্ছে- ‘না’ বলা। এখানে মনে রাখা জরুরী যে, আমাদের সম্পদ সীমিত, সময়ও অফুরান নয়, গায়ের শক্তিও এমন নয় যে সব কিছু একসাথে করে ফেলা যাবে। তাছাড়া, কোন কাজ করার পেছনে যে অনুপ্রেরণা প্রয়োজন তা সব সময় এক লেভেলে থাকে না, কম-বেশি হয়ি। এই যখন অবস্থা, তখন কি করে সবাইকে ‘হ্যাঁ’ বলা যাবে? নাকি তা বলা উচিৎ?
আপনি যদি ছোট-বড় সব সুযোগকেই ‘হ্যাঁ’ বলতে থাকেন, এমন সময় আসবে যখন বড় কোন সুযোগকে ‘হ্যাঁ’ বলতে পারবেন না। কারণ, সাধ থাকলেও, সাধ্য তো নেই!
সেজন্যে, কিভাবে ‘না’ বলতে হয় তা আপনাকে শিখতে হবে। কাউকে সুন্দর করে ‘না’ বলতে পারাটা একটি শিল্প। যে ব্যক্তি তা নিপুণ ভাবে করতে পারেন তিনি একজন শিল্পী। কৌতূহল হচ্ছে কি কিভাবে মানুষের মনে ব্যথা না দিয়েও ‘না’ বলা যায় যাতে আপনি নিজেও পরে কোন অপরাধবোধে না ভুগেন?
অনেক ব্যক্তিই আছে যারা মানুষকে ‘না’ বলতে গিয়ে খুব রুক্ষ হয়ে যান। এটা করা কোন ভাবেই উচিৎ নয়। কিন্তু, তাই বলে আপনি যাতে খুশি হতে পারবেন না, যা আপনার ব্যবসাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে না, সেরকম কিছুতে কেন রাজি বলবেন! অথচ, অনেকেই তা করে থাকেন। কেন? এর প্রধান কারণ, স্বভাবগত ভাবে মানুষ কাউকে ‘না’ বলতে অস্বস্তি বোধ করে। তাই, কোন কিছুকে ‘না’ বলার কৌশল জানার আগে জানা যাক, মানুষ কেন এই অস্বস্তি বোধ করে।
এর প্রথম কারণ, মানুষ কোন ভাবেই কারো প্রতি অভদ্র আচরণ করতে চায় না। এরকম অনেকেই মনে করে থাকেন, কাউকে ‘না’ বলাটা একটা অভদ্রতা। বড়কে ‘না’ বলতে নেই, অফিসের সিনিয়র অফিসারকে ‘না’ বলা যাবে না কিংবা ব্যবসার পুরোনো কাস্টোমারকে ‘না’ বলাটা ব্যবসার জন্যে ক্ষতিকর- এমন নীতি ও সংস্কৃতি মেনে চলেন।
দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, অনেকেই কাউকে ‘না বলতে পারেন না সম্পর্ক ভেঙ্গে যাবার ভয়ে। কাজের বন্ধু হয়তো এসে বললো- ‘দোস্ত, কাজটি করে দে।‘ আপনিও বন্ধুকে খুশি করতে হাতের কাজ ফেলে কাজটি করতে লেগে গেলেন। কেন এমন হয়? আসলে বন্ধুর সাথে খারাপ হয়ে যাবে বা ভেঙ্গে যাবে এই ভয়ে অনেকেই অনুরোধে ঢেকি গিলে ফেলেন।
কাউকে ‘না’ বলতে পারার আরেকটি কারণ হচ্ছে, মানুষের একটি সুযোগসন্ধানী স্বভাব আছে। এই স্বভাবের কারণেই কোন সুযোগকেই ছেড়ে দিতে চায় না কোন কোন মানুষ। এই স্বভাবের কারণেই মানুষ যত অপ্রয়োজনীয় আমন্ত্রনই হোক না কেন, তাকে ‘হ্যাঁ’ বলে ফেলে। ‘পাছে যদি সুযোগটি ছুটে যায়’, ‘হতেও পারে এটা আমার জন্যে অনেক বড় সৌভাগ্য বয়ে আনতে পারে’, এমন মনোভাবের কারণেই কোন কোন মানুষ সব সুযোগকেই ‘হ্যাঁ’ বলে ফেলে।
শেষ কারণটি হলো, মানুষ কোন ভাবেই নিজেকে দোষী হিসেবে দেখতে চায় না। কেউ যদি ‘না’ বলাটা অভদ্র আচরণ মনে করে, সে কাউকে ‘না’ বলার পর নিজেকে অপরাধী ভাবতে থাকে। কিন্তু, মানুষ তা কখনো চায় না। ‘না’ বলার কারণে কোন অঘটন ঘটে গেলে নিজেকে দোষী হতে হবে, এই ভয়ে অনেকেই কারো মুখের উপর ‘না’ বলতে পারেন না।
এবারে চোখ বন্ধ করে একটু ভাবুন তো, উপরের কোন কারণটির কারণে মানুষকে ‘না’ বলতে পারেন না? হতে পারে, আপনার হয়তো অন্য কারণও থাকতে পারে। আপনার চারপাশের পরিবেশ, বয়স কিংবা আপনি যে পরিস্থিতিতে আছেন আছেন তা ভিন্ন হলে, আপনার কারণটাও ভিন্ন হতে বাধ্য। তবে, গবেষকদের মতে, উপরে উল্লিখিত চারটি মূল কারণই মানুষকে অপ্রস্তুত অবস্থাতে ‘হ্যাঁ’ বলতে বাধ্য করে। ‘না’ বলতে পারার পিছনে যে কারণই থাকুক না কেন, নিজেকে বাঁচিয়ে এবং অন্যকে না চটিয়ে ‘না’ বলার কিছু কৌশল আছে। এই কৌশল প্রয়োগ করতে হলে তিনটি ধাপে ‘না’ বলতে হয়। সেই ধাপগুলো নিয়ে এবারে আলোচনা করা যাক।
১ম ধাপ- ‘সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা':
এমন একটা পরিস্থিতির কথা চিন্তা করুন যখন কেউ আপনার কাছে কোন প্রস্তাব নিয়ে আসলো, আপনি ভেবে দেখলেন প্রস্তাবটা আপনার জন্যে লাভজনক নয়, কিন্তু ভেবে পাচ্ছেন না পরিচিত অনুরোধকারীকে কিভাবে ‘না’ বলবেন। এমন পরিস্থিতিতে আপনি কি করেন? কাজটি করার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও অনেকে এক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’ বলে থাকেন। মনে থাকে অন্য চিন্তা- ‘আপাততঃ রাজি হয়ে ব্যাটার কাছ থেকে নিস্তার পাই তো’। পরে দেখা গেলো কাজটি আপনি করলেন না। তখন কি হয়? আপনার সম্পর্কে সেই লোকটার মনে একটা খারাপ ধারণা সৃষ্টি হয়ে যায় না?
এখানে মনে রাখা জরুরী যে, আমরা যখন অন্য কোন মানুষের সাথে যোগাযোগ করি, শুধু মুখ দিয়েই কথা বলি না। আমাদের শরীরেরও একটি ভাষা আছে। গবেষনায় দেখা গেছে, মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের ৭০%-ই হয় কোন মুখের ভাষা ছাড়া। অর্থাৎ, যোগাযোগের সত্তর ভাগই হয় শরীরী ভাষা প্রয়োগ করে। এখন দেখা গেলো, মুখে ‘হ্যাঁ’ বললেন, কিন্তু আপনার শরীরের বাকি অংশ বলছে অন্য কথা, তখন কি অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়ে যাবেন না?
এজন্যে, এসব পরিস্থিতিতে সত ভাবে মতামত ব্যক্ত করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। আপনি যা বলতে চান, তা সরাসরি বলে দিন- সেটা ‘হ্যা’-ই হোক কি ‘না’। অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়ে লজ্জা পেয়ে ব্লাড প্রেসার বাড়ানোর চেয়ে এটা করাই ভালো না?
২য় ধাপ- কথা বেশি লম্বা করবেন নাঃ
‘না’ বলার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অনেকেই কোন কিছু না ভেবেই এর পিছনে কারণ ব্যাখা করতে লেগে যান। ‘অমুক অমুক জায়গায় আমার মিটিং আছে’ কিংবা ‘আগামী সপ্তাহে আমার চাচাতো-মামাতো ভাইরা আসবে, তাদের সময় দিতে হবে’ এমনই কোন হিবিজিবি যুক্তি দিয়ে অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়া থেকে নিজেকে বাঁচাতে চান।
এমন করবেন না। আপনি যতই বড় করে ব্যাখ্যা করবেন, ততই ফেঁসে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। অনুরোধকারী হয়তো বলে বসবে- ‘আমারটা তো বেশিক্ষণের কাজ না’ কিংবা ‘তোমার কাজগুলোর ফাঁকে কোন একটা সময় বের করে কাজটা করে দাও তাইলেই হবে’। অনেক ক্ষেত্রে কথা কাটাকাটি, এমনকি ঝগড়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। দরকার কি এমন অবস্থার সম্মুখীন হওয়ার?
৩য় ধাপ- ‘না’ বলার কারণ বলুনঃ
কাউকে ‘না’ বলার পর, ছোট্ট করে এর পিছনের কারণ বলুন। কেউ হয়তো আপনার কাছে এসে বললো- ‘এটা একটু করে দাওনা?’ আপনার এই মুহূর্তে কাজটি করার কোন ইচ্ছা নেই। লোকটিকে সুন্দর করে বলে দিন- ‘ না ভাই, তুমি বলার আগে অন্য একজনের কাজে হাত দিয়েছি। তার কাজটা তাড়াতাড়ি করে দিতে হবে‘ অথবা ‘আমার হাতে কিছু কাজ জমে আছে, সেগুলো আগে করতে হবে। তাই তোমার কাজটা হাতে নেওয়া সম্ভব নয়।‘ এরফলে কি হবে? দেখবেন, আপনি নিজেকে হাল্কা বোধ করবেন। অন্যদিকে আপনাকে যে অনুরোধ করেছে, সে-অখুশি হবে না কিংবা আর চাপাচাপি করবে না।
আগেই বলা হয়েছে, সুন্দর করে ‘না’ বলতে পারাটা শিল্প। আপনাকে নিপুণ একজন শিল্পী হতে হলে অনুশীলন করতেই হবে। তাই, এই তিনটি ধাপ ভালো করে মনে রাখতে হবে- প্রথমেই সরাসরি ‘না’ বলতে হবে, কথা বেশি লম্বা করা যাবে না, সবশেষে ছোট করে ‘না’ বলার কারণটি বলতে হবে।
ঠিক ভাবে এই তিনটি ধাপ প্রয়োগ করতে পারলে দেখবেন ‘না’ বলাটা কত সহজ হয়ে গেছে। তাহলে, এখন থেকেই এগুলো অনুশীলন করায় লেগে যান। দেখবেন, ব্যবসায় সফলতা লাভের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে গেছে।
তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েবসাইট এবং ইউটিউবের একটি ভিডিও ক্লিপ
| ফজর | ৪:১০ AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১২:০৪ PM দুপুর |
| আছর | ৪:৪১ PM বিকাল |
| মাগরিব | ৬:৩৭ PM সন্ধ্যা |
| এশা | ৭:৫৮ PM রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |